নিজস্ব প্রতিবেদক :নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জলন্দা গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে পুত্রবধূকে রক্ষা করতে গিয়ে স্বামীর ধারালো অস্ত্রের কোপে রওশন আরা (৪২) নামে এক গৃহবধূ গুরুতর জখম হয়েছেন।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী নুরুল ইসলাম (৫৫) বড়াইগ্রাম থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন।ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) বেলা ১১টার দিকে। বর্তমানে গুরুতর আহত রওশন আরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পারিবারিক বিরোধ ও ঘটনার পটভূমি:স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নুরুল ইসলামের ছেলে রাসেল আহমেদ প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে আড়াই বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এই ঘটনায় রাসেলের প্রথম স্ত্রী করপোরেট ও সেনাদপ্তরে অভিযোগ জানালে রাসেল আহমেদের সেনাবাহিনীর চাকরি চলে যায়। চাকরি হারানোর পর থেকেই রাসেলের বাবা নুরুল ইসলাম প্রথম পুত্রবধূর ওপর চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন।
ঘটনার দিন (১৮ সেপ্টেম্বর) রাসেলের প্রথম স্ত্রী তাঁর দেনমোহর ও ভরণপোষণের দাবিতে শ্বশুরবাড়িতে আসেন। এ সময় শ্বশুর নুরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে নুরুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে ঘর থেকে ধারালো অস্ত্র এনে প্রথম পুত্রবধূকে কোপাতে উদ্যত হন।হামলা ও আত্মসমর্পণ:শ্বশুর যখন পুত্রবধূকে কোপাতে যান, তখন নুরুল ইসলামের স্ত্রী রওশন আরা তাঁর পুত্রবধূকে বাঁচাতে মাঝখানে এসে দাঁড়ান এবং স্বামীকে বাধা দেন। এতে নুরুল ইসলাম আরও উত্তেজিত হয়ে পুত্রবধূর পরিবর্তে নিজের স্ত্রী রওশন আরাকেই এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত ও জখম করেন।রওশন আরার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে সরাসরি বড়াইগ্রাম থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় রওশন আরাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, এই ঘটনায় আহত রওশন আরার ভাই জরিফ উদ্দিন বাদী হয়ে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ আত্মসমর্পণকারী নুরুল ইসলামকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নাটোর জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।
Leave a Reply